
ডোপিংয়ের দায়ে দীর্ঘ দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অবশেষে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরলেন লিওনেল মেসির বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ আলেহান্দ্রো ‘পাপু’ গোমেজ।
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের পর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করে ৩৭ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এখন ইতালির দ্বিতীয় বিভাগের (সিরি বি) ক্লাব পাদোভার হয়ে নতুন করে পথচলা শুরু করেছেন।
গত শনিবার সিরি ‘বি’-এর ম্যাচে ভেনেজিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল পাদোভা। এই ম্যাচ দিয়েই দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটে পাপুর। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে বদলি হিসেবে তিনি মাঠে নামেন। যদিও তার দল ম্যাচটি ২-০ গোলে হেরেছে, তবুও গ্যালারির দর্শকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা তাকে আবেগাপ্লুত করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটিই ছিল তার প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।
স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ায় খেলার সময় নিজের অসুস্থ ছেলের কাশির সিরাপ খেয়েছিলেন পাপু গোমেজ, যার ফলে তার শরীরে ‘টারবুটালিন’ নামক নিষিদ্ধ দ্রব্যের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এই ঘটনার জেরে সেভিয়া তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। পরবর্তীতে ইতালিয়ান ক্লাব মনৎসার হয়ে অল্প কিছুদিন খেললেও, ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। গত ১৮ অক্টোবর, ২০২৫-এ তার শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়।
নিষেধাজ্ঞার সময়টি নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। কর্টা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কেউ কোকেন বা গাঁজা সেবন করলে ৬ মাসের শাস্তি পায়, আর আমি ছেলের কাশির সিরাপ খেয়ে ২ বছরের সাজা পেলাম! এটা কি কোনো যুক্তির মধ্যে পড়ে? শুরুতে আমি প্রচণ্ড রাগান্বিত ছিলাম। ফুটবল দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলাম, মনে হতো আমার জন্য ফুটবল মরে গেছে। আমাকে মনোবিদের সাহায্যও নিতে হয়েছে।’
Leave a Reply